সোমবার, ০১ Jun ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
আদালত প্রতিবেদক, ক্রাইম ডেস্ক ॥
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামীকাল (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, গত ২৪ মে একই আদালতের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আজকের দিনটি (১ জুন) ধার্য করেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি চূড়ান্ত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
যেভাবে নির্মমতার শিকার হয় শিশু রামিসা
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বাইরে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজেদের রুমের ভেতরে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ হওয়ায় ভেতর থেকে বন্ধ থাকা ওই রুমে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।
কোনো উপায় না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তারা শিউরে ওঠেন। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মস্তকবিহীন দেহ, আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি রাখা ছিল ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে।
এই ভয়ানক দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।